নিজেকেই ব্যালন ডি’অর দিয়ে দিলেন লেওয়ানডস্কি!

দুর্দান্ত একটি মৌসুম শেষ করলেন জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেওয়ানডস্কি। কি ব্যাক্তিগত আর কি দলড়ত- সর্বক্ষেত্রেই ইউরোপিয়ান ফুটবলে সবারচেয়ে এগিয়ে তিনি। অথচ, এমন একটি মৌসুম কাটানোর পর আফসোসের শেষ নেই বায়ার্ন স্ট্রাইকারের।

দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে বায়ার্ন মিউনিখকে ট্রেবল জিতিয়েছেন লেওয়ানডস্কি। বুন্দেসলিগায় ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি শিরোপা জিতিয়েছেন ডিএফবি পোকাল তথা জার্মান লিগ কাপ এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের। প্রতিটি প্রতিযোগিতাতেই সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন তিনি।

ক্যারিয়ারে এটাই ছিল তার সেরা মৌসুম। ৪৭ ম্যাচ খেলে মোট ৫৫টি গোল করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ফাইনালছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছিলেন তিনি।

এত ভালো পারফরম্যান্স করার পর নিশ্চিত চোখ বন্ধ করে এবারের ব্যালন ডি’অরটা পেয়ে যেতেন রবার্ট লেওয়ানডস্কি। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, করোনাভাইরাসের কারণে মৌসুম বাধাগ্রস্থ হওয়ার কারণে ব্যালন ডি’অরের আয়োজন ফ্রেঞ্চ ফুটবল ম্যাগাজিন এবার ঘোষণা দেয়, তারা এই বছর আর ইউরোপ সেরা ফুটবলারের পুরস্কারটি দেবে না।

লেওয়ানডস্কির আফসোসটা এখানেই। এত ভালো পারফরম্যান্স করেও তিনি ব্যালন ডি’অরের গর্বিত মালিক হতে পারছেন না। তবে, বায়ার্নের এই স্ট্রাইকার ক্ষোভে-দুঃখে ঘোষণা দেন, তিনি নিজে যদি ব্যালন ডি’অর দেয়ার কর্তৃপক্ষ হতেন, তাহলে পুরস্কারটা নিজেকেই দিয়ে দিতেন। অর্থ্যাৎ, নিশ্চিত অর্থেই এবারের ব্যালন ডি’অরের যোগ্য দাবিদার ছিলেন তিনি।

ওনেটকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে লেওয়ানডস্কি বলেন, ‘এখানে যা কিছু জেতা প্রয়োজন, সব কিছুই আমরা জিতেছি। প্রতিটি প্রতিযোগিতাতেই সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলাম আমি। আমি মনে করি, যদি কোনো খেলোয়াড় এসব কিছুই জিতে থাকে, তাহলে তারই ব্যালন ডি’অর পাওয়া উচিৎ।’

বায়ার্নের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার পেছনে দলের গভীরতাকেই স্বীকৃতি দিচ্ছেন লেওয়ানডস্কি। বিশেষ করে মিডফিল্ডে। তিনি বলেন, ‘যদি ফিলিপ কৌতিনহো এবং ইভান পেরিসিক ৮০ মিনিটে মাঠে নামে, তাহলে প্রতিপক্ষ বুঝতে পারে, বাকি ১০ মিনিটে আসলে কি ভয়ঙ্কর অবস্থা তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। তারা বুঝে যায়, আমরা কোনোভাবেই চাপ কমিয়ে আনতে রাজি নই। এটাই প্রতিপক্ষকে অসহায় বানিয়ে তোলে।’

বার্সার বিপক্ষে ৮-২ গোলে জয়ের ম্যাচ নিয়ে লেওয়ানডস্কি বলেন, ‘ম্যাচের আগে জানতাম যে, আমরাই জিতবো। কেউ কেউ বলছিল এটা হতে পারে ৫-১ গোলেও। কিন্তু ৮-২ তো সত্যিই ভিন্ন একটা বিষয়। আমরা সত্যিই খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলাম।’

ওই ম্যাচ নিয়ে লেওয়ানডস্কি আরও বলেন, ‘বার্সা ম্যাচের আগে আমার সঙ্গে সার্জি জিনাব্রি এবং জসুয়া কিমিচ দেখা করেন। তাদের কথা এমন ছিল না যে, আমরা বার্সার ম্যাচটা জিতবো কি না। তারা জিজ্ঞাসা করেছিল, আমরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতবো কি না? আমি বললাম, হ্যাঁ, জিতবো।’

বায়ার্ন ছাড়ার ইচ্ছা নেই লেওয়ানডস্কির। তিনি বলেন, ‘কঠিন সময়গুলোতে বায়ার্ন থেকে আমি যে সমর্থন এবং সহযোগিতা পেয়েছি, তাতে এই ক্লাবটি ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা নেই এবং বায়ার্নে থেকেই ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই।’

 

news source.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *