ভার্সেটাইল কাজ করেছি কিন্তু কমেডিগুলোই আলোচিত হয়েছে : আনন্দ খালেদ

ছোট পর্দার প্রিয়মুখ অভিনেতা আনন্দ খালেদ। ১০ বছরের অভিনয়ের ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছেন বহু জনপ্রিয় নাটক। গাজী রাকায়েতের নির্দেশনায় প্রথম মঞ্চ নাটক দিয়ে শুরু হয় তার অভিনয়ের যাত্রা। এখন টিভি নাটক নিয়েই বেশি ব্যস্ত। প্রথম টিভি নাটকের নাম ছিল ‘আংশিক সাদা কালো’। নাটকটি পরিচালনা করেছিলেন সায়েম জাফরি।

করোনায় দীর্ঘদিন ঘরে থেকে সম্প্রতি কাজে ফিরেছেন তিনি। তার ব্যস্ততা ও অভিনয়ের প্রসঙ্গে কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে। লিখেছেন অরণ্য শোয়েব-

জাগো নিউজ : কেমন আছেন ?
আনন্দ খালেদ : ভালোই আছি। তবে করোনার মধ্যে তো টেনশনও হচ্ছে খুব। সবাই ফিরছে তাই সাহস করে যদিও ফিরেছি কিন্তু চারদিকে এখনো অনেক আক্রান্ত। অনেক মানুষ মারাও যাচ্ছে। এসব টেনশনের মধ্যে কাজ করে আরাম হয় বলুন! এক মাস হলো কাজে ফিরেছি। কাজ তো করতেই হবে। ভয়ে প্রায় তিন-চার মাস কাজ করিনি তো আমরা সবাই। এখন আর ভয় পেলে চলবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাবধানে কাজ করছি।

জাগো নিউজ : কাজ কেমন চলছে?
আনন্দ খালেদ : দুটা শর্টফিল্মের কাজ শেষ করলাম। একটি হচ্ছে ইয়ামিন ইলান পরিচালিত ‘মাতাল’। অপরটি হচ্ছে মাহমুদ নিয়াজ চন্দ্রদ্বীপ পরিচালিত ‘মেন্টাল প্যান্ডেমিক’। দুটিতেই কেন্দ্রীয় চরিত্রের ভূমিকায় আমি আছি। এই দুটো কাজ নিয়ে আমি ভীষণ আশাবাদী। নির্মাতা অঞ্জন আইচ দাদারও একটি কাজ করেছি।

জাগো নিউজ : অনেক নাটকেই এখন কাজ করছেন। কিন্তু খুব একটা আলোচনায় নেই আপনি। কারণ কী?
আনন্দ খালেদ : আমার কিন্তু সম্প্রতি হিট কাজ আছে। কেন আলোচনা নেই সেটাও আমিও জানি না। চয়নিকা দিদির সিনেমা ‘বিশ্বসুন্দরী’-তে কাজ করেছি। এখানে ভালো একটি চরিত্র করেছি। আশা করছি এটা আলোচনা তৈরি করবে। ‘আবার বসন্ত’ সিনেমায় কাজ করেও ভালো সাড়া পেয়েছিলাম।

তাছাড়া আমি সবসময়ই কিন্তু একটু বেছে কাজ করেছি। আমার কাজের সংখ্যা ও মানের দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যাবে। গতানুগতিক কাজ নয়। মাঝে একটি সন্ত্রাসীর চরিত্র করেছি। একদমই আলাদা ছিল কাজটি। নিজের ইমেজের বাইরে গিয়ে আলাদা ফ্লেভার। জানি না সেটা কীভাবে গ্রহণ করবেন দর্শক।

এখন মানুষ জিফাইভ, হৈচৈ, বিভিন্ন প্লাটফর্মের কাজ দেখে। বিশ্বমানের কাজের সঙ্গে তারা পরিচিত। গতানুগতিক কাজ কেউ দেখবে না। অহেতুক ভাঁড়ামি-সার্কাস টাইপের কাজ আমি সম্পূর্ণ বাদ দিয়েছি। কমেডি করছি; তবে সেটা পরিস্থিতি ডিমান্ড করে এমন।

জাগো নিউজ : আনন্দ খালেদ কী একজন কমেডিয়ান নাকি অভিনেতা?
আনন্দ খালেদ : অবশ্যই অভিনেতা। আমি ভার্সেটাইল কাজ করেছি। কিন্তু আমার কমেডিগুলো বেশি আলোচিত হয়েছে। হ্যাঁ, কমেডি চরিত্রগুলো আমিও উপভোগ করতাম। একই রকম কাজ বারবার করে তো কোনো আনন্দ নেই। সেজন্য নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করছি এখন। নতুন করে কিছু কাজ ও চরিত্র করতে চাই, যা অন্যরকম করে দর্শকের কাছে আমাকে তুলে ধরবে। অকারণে যুক্তিহীন সংলাপের ভাঁড় হয়ে তো লাভ নেই।

জাগো নিউজ : তাহলে আনন্দ খালেদ আর কমেডি চরিত্রে অভিনয় করবে না। কিছু চ্যালেঞ্জিং চরিত্র চাইছেন?
আনন্দ খালেদ : চ্যালেঞ্জ কিন্তু কমেডি চরিত্রেও আছে। কমেডি চরিত্রে নয় আপত্তিটা। এখানে কেমন চরিত্র করছি সেটা মুখ্য। দেখুন, সময়টা এখন অন্যরকম। দর্শক রুচিসম্পন্ন কাজ পছন্দ করছে। শুধু স্বস্তা কথায় হাসতে চাইছে না। মানসম্মত কাজ না করলে কেউই দাম দেবে না। কমেডিটাও শিল্প। যদি প্রেজেন্টেশনটা সে মতো হয়। আমি কিন্তু অনেক নাটক করেছি যেখানে সিরিয়াস ক্যারেক্টর ছিল। নেগেটিভ ক্যারেক্টর ছিল। মুসাফির সিনেমা করেছি সিরিয়াস ক্যারেক্টরে। আইসক্রিম সিনেমায়ও কাজ করেছি। তবে সেগুলো আলোচিত হয়নি তেমন। আবার ছুঁয়ে দিলে মন সিনেমায় কমেডি চরিত্র করেছি। এটি খুব আলোচিত হয়েছিল।

আমার কমেডি চরিত্রগুলো আলোচিত হয়েছে। সিরিয়াস কাজগুলো খুব একটা আলোচিত হয়নি। তার মানে হয়তো আমার কমেডিটা ভালো হয়। সেজন্য দর্শক পছন্দ করছেন। কিন্তু কমেডিটার তো একটা সৌন্দর্য থাকা চাই। আজকাল পছন্দ হওয়ার মতো চরিত্র পাই না। যেগুলোর প্রস্তাব আসে সেগুলো করলে নিজেকে আর অভিনেতা বলে দাবি করতে পারবো না। সবারই একটা ব্যক্তিগত পৃথিবী থাকে। আমি একটা সোসাইটিতে বাস করি। সেখানে আমাকে তাই হতে হবে বা করতে হবে যা আমি ধারণ করি।

জাগো নিউজ : ছুঁয়ে দিলে মন সিনেমার প্রাণবন্ত অভিনেতা আনন্দ খালেদকে আর দেখা যায়নি। কেন?
আনন্দ খালেদ : একদমই যে প্রাণবন্ত ছিলাম না তা কিন্তু নয়। কিছু ছবির চরিত্র আলোচনায় এসেছে। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ ভাইয়ের যদি একদিন ছবিতে আমার চরিত্রটি বেশ ভালোই ফিডব্যাক পেয়েছে। তারপর রেদোয়ান রনির আইসক্রিম, অনন্য মামুনের আবার বসন্ত সিনেমায় কাজ করে একটা আনন্দ পেয়েছিলাম। মানে ভিন্ন রকম চরিত্রে কাজের আনন্দ। কখনো কখনো নিজের তৃপ্তির জন্যও কম আলোচিত কাজ করতে হয়।

এখন বিশ্বসুন্দরী সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায়। এখানে খুব ভালো চরিত্র করেছি। কাজটাও ভালো হয়েছে ওভারঅল। আশা করা যায় এটি ভালো লাগবে সবার।

জাগো নিউজ : যদি জানতে চাই অভিনয়ের দীর্ঘ এই পথচলায় আপনার প্রাপ্তি কি?
আনন্দ খালেদ : মানুষের ভালোবাসা। এটাই বড় প্রাপ্তি। দর্শক বলে ভাইয়া আপনার অভিনয় ভালো লেগেছে, আপনার চরিত্রটি দারুণ ছিল, আপনার অভিনয় দেখে হাসি পেয়েছে, মন খারাপ ছিল আপনার অভিনয় দেখে মন ভালো হয়েছে; এগুলোই এ অভিনয় জীবনের সেরা প্রাপ্তি। এত এত লোকের সঙ্গে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা এসবই তো সঞ্চয়।

জাগো নিউজ : নিজের সমসাময়িক কার কার অভিনয় আপনার খুব ভালো লাগে?
আনন্দ খালেদ : বিপদে ফেলে দিলেন। হা হা হা….! সবাই আমার পছন্দের অভিনয়শিল্পী। বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হলে বলবো অপূর্ব ভাই আর নিশো ভাইয়ের কাজ খুব সুন্দর। অভিনেত্রীদের মধ্যে মম আপু আর মেহেজাবীনের কাজগুলো একটু ডিফারেন্ট লাগে আমার কাছে। তবে আবারও বলছি যাদের সঙ্গে কাজ করেছি বা আমার সমসাময়িক সবাই আমার প্রিয়। তাদের সান্নিধ্য, তাদের সঙ্গে কাজ করে আমি সমৃদ্ধ হয়েছি।

জাগো নিউজ : কাজ করতে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছে কখনো। যখন ইচ্ছে হয়েছে আর অভিনয় করবেন না…..
আনন্দ খালেদ : তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার যে হইনি সেটা বললে মিথ্যা বলা হবে। এসব তিক্ততার কথা আমি মনে রাখি না। আমি ভালো এবং মজার কাজের সময়গুলোকে মনে রাখি। সেগুলোকে স্মৃতি হিসেবে জমিয়ে রাখতে ভালোবাসি।

 

news source.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *